ধর্ষণ মানবতা ও সমাজের বিরুদ্ধে একটি জঘন্য অপরাধ। আল কোরআনে সরাসরি আধুনিক পরিভাষার 'ধর্ষণ' শব্দটি ব্যবহার করা না হলেও, ইসলামি আইনশাস্ত্রে (ফিকহ) একে অত্যন্ত ভয়ানক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোরআন এবং হাদিসের আলোকে ধর্ষণের শাস্তিকে অত্যন্ত কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সসহ ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি নিচে আলোচনা করা হলো: ১. হিরাবাহ (সন্ত্রাস বা ফাসাদ সৃষ্টি হিসেবে বিচার) ধর্ষণের সময় যদি জোরজবরদস্তি, অস্ত্রের ভয় দেখানো, অপহরণ বা দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করা হয়, তবে ইসলামি স্কলারগণ একে 'হিরাবাহ' (সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা ত্রাস সৃষ্টি) হিসেবে গণ্য করেন। কোরআনের রেফারেন্স: “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো—তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে।” (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩৩) অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী রাষ্ট্র বা বিচারক ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারেন। ২. যিনা বিল জবর (...
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক বিমান দুর্ঘটনা। প্রতিষ্ঠানটির হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। সেই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন অভিভাবক ও বিমানের একজন পাইলট। আহতের সংখ্যাও কম নয়। আহত ১৭৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থীই ৬৩ জন। জানা যায়, গেল বছরের ২১ জুলাই কলেজের প্রজেক্ট-২ ভবনের প্রতিটি কক্ষে চলছিল পাঠদান। তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসরুমে বসে ছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। সবাই ছিল শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় ব্যস্ত। দুপুর ১টায় ছুটি হয়। বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি ঢাকার বীর-উত্তম এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি থেকে বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পাইলট জনবহুল এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও খুব কম উচ্চতায় থাকায় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ আর ফিরে পাননি। শেষ পর্যন্ত ১টা ১৮ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দা...
আর্থিক কারণে অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়াশোনার সুযোগ হয়নি অনিক হাওলাদারের (২০)। অন্য ভাইদের সঙ্গে তাঁকে কাজে নামতে হয়। অনিকের এমন বন্ধু আছেন, যাঁরা পড়াশোনা করছেন। তাঁরা গত জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে তাঁকে অংশ নিতে বলেন। বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন অনিক। সেদিনই তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন। অনিক বলেন, তাঁর চোখ-মুখ-মাথায় গুলি লাগে। দুটি চোখই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি একটি চোখে আবছা দেখতে পান। অপর চোখটি আর ভালো হবে কি না, জানেন না। তা ছাড়া তাঁর মাথায় খুব যন্ত্রণা হয়। এই যন্ত্রণা নিয়ে ঘুমাতে খুব কষ্ট হয়। অনিকের বাড়ি মাদারীপুর সদরে। বাবা নুরুল ইসলাম। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁর চার ছেলে ও তিন মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে অনিক তৃতীয়। মেয়েরা শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ছেলেদের নিয়ে একসঙ্গে থাকেন নুরুল। তিনি পেশায় রিকশাচালক। তবে বয়সের কারণে এখন আগের মতো রিকশা চালাতে পারেন না। ছেলেরাই সংসার চালান। তবে ছেলেদের সবার নিয়মিত আয় নেই। তাঁরা রাজমিস্ত্রি, মালামাল সরবরাহে সহায়তাকারীর কাজ করেন। কয়েক বছর আগে অনিক একটি আইসক্রিম কোম্পানিতে যুক্ত হন। তিনি দোকানে দোকানে আইস...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন