কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ইসলামি আইনের চূড়ান্ত বিধান
ধর্ষণ মানবতা ও সমাজের বিরুদ্ধে একটি জঘন্য অপরাধ। আল কোরআনে সরাসরি আধুনিক পরিভাষার 'ধর্ষণ' শব্দটি ব্যবহার করা না হলেও, ইসলামি আইনশাস্ত্রে (ফিকহ) একে অত্যন্ত ভয়ানক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোরআন এবং হাদিসের আলোকে ধর্ষণের শাস্তিকে অত্যন্ত কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সসহ ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. হিরাবাহ (সন্ত্রাস বা ফাসাদ সৃষ্টি হিসেবে বিচার) ধর্ষণের সময় যদি জোরজবরদস্তি, অস্ত্রের ভয় দেখানো, অপহরণ বা দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করা হয়, তবে ইসলামি স্কলারগণ একে 'হিরাবাহ' (সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা ত্রাস সৃষ্টি) হিসেবে গণ্য করেন।
কোরআনের রেফারেন্স: “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ (অশান্তি) সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো—তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে।” (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩৩) অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী রাষ্ট্র বা বিচারক ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারেন।
২. যিনা বিল জবর (জোরপূর্বক ব্যভিচার হিসেবে বিচার) যেহেতু ধর্ষণের সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক জড়িত, তাই সাধারণ অবস্থায় এটিকে 'যিনা বিল জবর' বা জোরপূর্বক ব্যভিচার হিসেবে ধরা হয়।
কোরআনের রেফারেন্স: “ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ—তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করো।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২)
হাদিসের রেফারেন্স: অবিবাহিত ও বিবাহিত অপরাধীর শাস্তির পার্থক্য সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন: "অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে একশত বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (রজম)।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১৬৯০)
৩. নির্যাতিতার ক্ষতিপূরণ (মোহরে মিসল) এবং নির্দোষিতা ইসলামে ধর্ষিত নারী বা নির্যাতিতা সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁর কোনো শাস্তি বা পাপ নেই। বরং ধর্ষককে শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।
কোরআনের রেফারেন্স: “কাউকে জবরদস্তি বাধ্য করা হলে, বাধ্য করার পর আল্লাহ তো তার প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৩)
হাদিসের রেফারেন্স: ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এর যুগে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে, রাসূল (সা.) ধর্ষককে শাস্তি দেন এবং নির্যাতিতা নারীকে বেকসুর খালাস দেন ও তাকে কোনো শাস্তি দেননি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৪৩৭৯ / সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ১৪৫৪)
ফিকহের রেফারেন্স: হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ 'আল-হিদায়া' অনুযায়ী, ধর্ষককে অবশ্যই নির্যাতিতার সমমর্যাদার মোহরানা (মোহরে মিসল) বা উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইসলামি আইনে এই সমস্ত দণ্ডবিধি কার্যকর করার ক্ষমতা শুধুমাত্র ইসলামি রাষ্ট্র বা আদালতের হাতে। সাধারণ মানুষ কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না।
ট্যাগ বা কি-ওয়ার্ড (Tags/Keywords): ধর্ষকের শাস্তি, ইসলামে ধর্ষণের বিচার, আল কোরআনে ধর্ষণের শাস্তি, যিনা বিল জবর, হিরাবাহ আইন, সহিহ হাদিস, punishment for rapist in Islam, Quranic law on rape, authentic hadith on rape, Islamic justice.
- আরিফ হাসনাত সাকিব

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন